জিভ ( জিহ্বা) দেখে স্বাস্থ্য সম্পর্কে জানুন
জিভ ( জিহ্বা) মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ ইন্দ্রিয়গুলোর একটি। জিভ দিয়ে খাবারের স্বাদ পাওয়া, খাবার মুখে নিয়ে চিবানো ও খাওয়ার কাজ করা হয়। আবার এই জিভ দেখেই কারও শরীর-স্বাস্থ্যের অবস্থাও জানা যায়। কী? অবাক হচ্ছেন? যারা জানেনা, তাদের কাছে অবাক হওয়ার মতোই কিছু। আর্টিকেলটিতে আপনাদের জানাবো জিভ দেখে কীভাবে স্বাস্থ্য সম্পর্কে জানা যাবে।
জিভ - গুরুত্বপূর্ণ একটি ইন্দ্রিয়
বলা হয়ে থাকে মানবজাতি পঞ্চম ইন্দ্রিয়ের অধিকারী। যদিও ৫ টিরও বেশি ইন্দ্রিয় আছে বলে মনে করা হয়। কিন্তু ৫ টি ইন্দ্রিয় হচ্ছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেগুলো হচ্ছে- স্বাদ, স্পর্শ, নাক, কান, চোখ। জিভ হচ্ছে স্বাদগ্রহণ ইন্দ্রিয়ের মূল অঙ্গ। জিভ দিয়েই সকল কিছুর স্বাদ নেওয়া যায়।
শুধু স্বাদ নেওয়ায় নয়, জিভ দেখে, জিভের রঙ দেখে বোঝা যায় যে কারও শরীর-স্বাস্থ্যের কোনো সমস্যা বা রোগ আছে কি-না।
জিভের সমস্যা
জিভ কেটে যাওয়া, জিভে ফাটল, জিভে ঘা, জিভ ব্যথা, ফোলা, জিভ নড়াচড়া করতে না পারা অথবা নড়াচড়া করায় কষ্ট, জিভের রঙ এর পরিবর্তন।
জিভ দেখে স্বাস্থ্য সম্পর্কে জানা
সবার জিভের স্বাভাবিক রঙ হয় হালকা গোলাপি। এটি স্বাস্থ্য ভালো থাকা নির্দেশ করে। এছাড়া অনেক মানুষের জিভের রঙ কোনো না কোনোভাবে পরিবর্তন হয়ে যায়।
কোন রঙ কীসের জন্য হয় এবং তা দেখে কী বোঝা যায় সে বিষয়ে বিস্তারিত এখানে :
সাদা বা সাদাটে ভাব : কারও জিভের রঙ যদি দেখা যায় সাদা, পুরোপুরি সাদা না হলেও সাদাটে ভাব দেখা গেলে তার কারণ হচ্ছে ধুমপান, অ্যালকোহল, তামাক নেওয়া। এসব নেওয়ায় জিভ সাদা বা সাদাটে দেখায়। আবার দাঁত ঠিকমতো ব্রাশ না করা, দাঁত ব্রাশের সময় মাঝেমাঝে জিভ পরিষ্কার না করার জন্যও ছত্রাকের স্তর পড়ে জিভের রঙ এরকম হয়ে যায়।
ধুসর : ছাই রঙের দেখা যাওয়ার কারণ হয়ে থাকে পরিষ্কার না করায় জমা হওয়া স্তর, মৃত ছত্রাকের স্তর। ধুমপান, অ্যালকোহলের জন্যও ধুসর রঙ হয়।
পার্পল বা রক্তবর্ণ : জিভের রঙ যদি হয় রক্তের রঙের মতো বা তার কাছাকাছি রঙের, তাহলে সেটা ফুসফুস ও হৃদপিণ্ডের কোনো অস্বাভাবিকতা নির্দেশ করে। এই রঙ দেখলে তাই সচেতন হতে হবে।
উজ্জ্বল লাল : রক্তের অস্বাভাবিকতা, রক্তচাপ, হৃদরোগের নির্দেশ করে থাকে এই রঙ। ভিটামিন-বি এর অভাবও বুঝিয়ে থাকে এই রঙ হওয়া। রঙ হতে পারে উজ্জ্বল লাল, স্ট্রবেরি রঙের মতো।
কালো : যদি রঙ হয় কালো, অথবা যদি কালো লোমের মতো দেখা যায় জিভে, তাহলে সেটার কারণ এন্টিবায়োটিক। কেউ যদি অনেকদিন এন্টিবায়োটিক ঔষধ নিতে থাকে, তাহলে এন্টিবায়োটিক নেওয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া স্বরূপ জিভের বর্ণ হয় কালো।
হলুদ : হলদেটে অথবা হলুদ রঙে পরিবর্তন হলে তাহলে বুঝতে হবে পেটে গোলমাল আছে। গ্যাস্ট্রিক, হজমজনিত সমস্যার জন্য এমন রঙ দেখায় জিভে।
সাদা ও লাল দাগ : জিভের উপরের অংশে যদি দেখা যায় ফাটা, কাঁটার মতো এলোমেলো লম্বা দাগ রয়েছে, তাহলে সেটা জিভে ঘা ও অন্যান্য ক্ষত হওয়ার লক্ষণ।
মসৃণ জিভ : সবার জিভেই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনেকগুলো বিন্দুর মতো অংশ বিদ্যমান। এই বিন্দুর মতো অংশগুলোই মূলত সকল কিছুর স্বাদ নেওয়ার কাজ করে। যদি কারও জিভে এই বিন্দু বিন্দু অংশগুলো না থাকে, কম কম থাকে, তাহলে জিভ দেখায় মসৃণ ও সমান। এমন মসৃণ জিভ হয় সাধারণত কারও শরীরে আয়রন (লৌহ), ভিটামিন-বি, ফলিক অ্যাসিডের অভাব হলে।
রঙ দেখে যা করতে হবে
কোন রঙ কী জন্যে হয় তা জেনেছেন। তাই জিভের রঙ কেমন তা পর্যবেক্ষণ করুন। কোন রঙ কোন স্বাস্থ্য সমস্যার জন্য হয় সেটার প্রতি সচেতন হোন।
শেষ কথা
জিভ আমাদের গুরুত্বপূর্ণ ইন্দ্রিয়। স্বাস্থ্য ভালো থাকা মানে জিভও ভালো থাকা। জিভের যত্ন নিতে হবে। জিভ দেখে কোনো সমস্যা বোঝা গেলে সতর্ক হয়ে সেই সমস্যার জন্য সমাধানের ব্যবস্থা করতে হবে।