খাবার খাওয়ার সঠিক সময় কখন?
খাবার খাওয়ার সময় একেক মানুষের একেক হয়ে থাকে। এখনকার যুগে দেখা যায় সকালের নাস্তাকে অনেকেই বাদ রাখে। এটা সত্যি, খাওয়ার সময়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে কী কী খাওয়া হচ্ছে সেটা। কিন্তু সঠিক সময়ে ও নিয়মমাফিক না খেলে তা আমাদের দেহঘড়ির চক্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এই আলোচনার বিষয় হচ্ছে সঠিক ও নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ এবং খাবার খাওয়ার সঠিক সময় , কয়টার সময়ে কোন খাবার খাওয়া উচিত। চলুন এসব জানা যাক এই আলোচনায়।
সঠিক সময়ে খাবার খাওয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ?
দিনের পর রাত আসে, রাতের পর দিন। সূর্য ডুবে গেলে চাঁদ উঠার সময়, আর চাঁদ নিভে সকালে সূর্য উঁকি দিতে শুরু করে। পৃথিবীর প্রতিটি বস্তু ও কাজ হয় নিয়ম মেনে। নিয়মের বাইরে হয় না কোনোকিছুই। নিয়মের বাইরে হলে পৃথিবী টিকে থাকবে না।
তেমনি আমাদের দেহও একটি সময় মেনে চলে। যাকে 'দেহঘড়ি' বলা হয়। ঘড়িতে সঠিক সময় না দেখালে সেটার সময় হয় উল্টো অথবা পরিবর্তিত অথবা ঘড়ি হয়ে যায় নষ্ট।
মানবদেহও নিজস্ব সময়ানুবর্তিতা মেনে চলে। রাতে ও দিনে ভাগ হয়ে কাজ করে কিছু রাসায়নিক কর্মপ্রক্রিয়া ও হরমোন। প্রতিদিন একই সময়ে নিজেদের কাজ ঠিকঠাকভাবে সম্পাদনের জন্য এসব হরমোন ও প্রক্রিয়া অপেক্ষা করতে থাকে। সেই সময়ে হঠাৎ করে পরিবর্তন আসলে দেহের স্বাভাবিক কাজে বিঘ্ন ঘটে। পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে লাগে অনেক সময়।
আমাদের খাবার খাওয়াও একটি নিয়মে চলে, সে নিয়মে খাবার ভিতরে দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে পরিপাকতন্ত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গুলো। প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে খাবার পেলে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গুলো সেই সময়কে নিজেদের বুস্টার টাইম হিসেবে ধরে কাজ চালিয়ে যেতে থাকে।
কিন্তু যদি হঠাৎ পরিবর্তন করা হয় নিয়মে, তাহলে অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মধ্যে অস্বাভাবিকতা সৃষ্টি হয়। ওজন বেড়ে যাওয়া, হজমে জটিলতা, ইনসুলিন এর অস্বাভাবিকতা, রক্তচাপ, ডায়াবেটিস সহ মারাত্মক সমস্যা হতে পারে সেই অস্বাভাবিকতা থেকে।
সুতরাং বুঝতেই পারা যাচ্ছে যে সঠিক ও একটি নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ। তাই সবার চেষ্টা করা উচিত সময়মতো ও নিয়মমতো খাওয়ার। এখন বলছি কয়টার সময়ে কোন খাবার এবং কখন খাওয়া ভালো।
খাবার খাওয়ার সঠিক সময় কখন?
সকালের খাবার
দিনের শুরু হয় সকাল দিয়ে। রাতের খাবারের পর একটা দীর্ঘ সময় না খেয়ে, ঘুমের মধ্যে কাটে। সকালে তাই খিদেও থাকে। সকালের নাস্তাটা সারাদিনের এনার্জি জোগায়। তাই সকালের নাস্তা মিস করা উচিত নয়।
কিন্তু নতুন প্রজন্মের কাছে যেন সকালের নাস্তা না করা একটি ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। যা মোটেও ঠিক কাজ নয়। নাস্তা না করলে সারাদিনের কর্মশক্তি পাওয়া যাবে না, মেজাজ ঠিক থাকবে না, মনোযোগ ধরে রাখা যাবে না।
তাই সকালের নাস্তা বাদ দেওয়া উচিত নয়। স্বাস্থ্য সম্মত পুষ্টিকর নাস্তাই পারে আপনার সারাদিন কর্মশক্তিতে তাজা রাখতে।
বেশিরভাগ মানুষ ঘুম থেকে উঠার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নাস্তা সেরে নেয়। সে হিসেবে ঘড়ির কাঁটায় সময় হয় সকাল ৬ টা থেকে ১০ টার মধ্যে। কারণ বেশিরভাগ মানুষ ৮ টার আগেই ঘুম থেকে উঠে পড়ে। নাস্তা করার সঠিক সময় ধরা হয় সকাল ৭ টা থেকে ৯ টার মাঝামাঝি সময়কে।